অন্যগাছকথা

অন্যগাছকথা  

পীযূষকান্তি বিশ্বাস


পাতার ঝাঁকে ঝাঁকে এতো হরিদ্রাভ ঘন

রোদের টুকরা টাকরা তবু চুয়ে চুয়ে পড়ে

গাছ কোনভাবেই সেসমস্ত কি আটকে দিতে পারে ?

বা হাতে বোনা মাথাল মাথায় কোন গাছ-ওয়ালা

গাছের নিজের তো ছাতা নেই, সে কি করে ছাতি হবে

তোমরা গাছকেই বলছো ? অথচ অন্য ভাবে বলা ।


অন্য ভাবে তোমরা  কি বলছো ? ভাষা ডিঙ্গিয়ে

কোনভাবেই রৌদ্র তবু তো আটকানো যাচ্ছে না

রোদ ঘাম গায়ে বড্ড লাগে, চামড়া পুড়ে পুড়ে যায়

উদরের ক্ষুধায় কাতর গাছ আম জাম পাইন 

খিদে পেটেও যার যৌবন আসে অলক্ষ্য একুশে 

তোমরা বলছো নিয়ম ? অথচ অন্যকোন আইন   ।


একেমন নিয়ম, আলাদা কেন ? কে দেয় বিধান 

লঙ্কায় রাবণ এক নাগরিক মাত্র , নাকি সেই রাজা 

গণিতে শুধু বেড়ে যায় সংখ্যা , অসংখ্য  পূজারী

চ্যাটার্জির কালো মেয়েটার এতো দিনে হলো না বিয়ে

শ্যামল ত্বকের নীচে দাগ হয়ে বসে গেছে আত্মগ্লানি

তোমরা কি লিখছো ? অথচ লাখো লাখো কবিতা লিখিয়ে ।


বিয়ে না হলে কি হয় ? কি বলছো হে ? তাতে গাছের কি

বিবাহ কি তবে পৃথিবীর একমাত্র ভবিতব্য কলা 

ন্যাহ গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে,  যার জন্য চাই চারা

অঙ্কুরোদগমের জন্য জরুরী একটি মা, তাতে উষ্ণ আঁচ 

সৃষ্টির জন্য চাই একটি বীজ, প্রয়োজন একটি ঘর  

ঘরের জন্য ছাদ ? অথচ ছাদকেই বলছো গাছ  ।


তাহলে , গাছ কি ছাতা হবে ? নাকি হবে সে আলো

কি যে বলো রাধামোহন ? মাথা গেছে ? একি পাগলামি কথা  

গাছ তো ছাতাই হবে,  হোক না সে আম, জাম, বট

বট থাকবে, বটের পাতায় থাকবেন সূর্য শক্তিধর      

অষ্টম প্রহরে উঁকি মেরে সঙ্গম করবেন  কুন্তি কুমারী

চক্রবতে প্রণয় সংবাদ ? অথচ বলবেন প্রণয় ঈশ্বর ।


সৃষ্টির আমি কে ? নিজেরই গায়ে তাপমাত্রা বর্ধমান

কদাচিৎ কাশিও আছে, নিঃশ্বাসে কমে আসে জোর

একজন গাছের হয়ে আমি আর কি কথা বলি

নাক মুখ মুখোশে ঢাকা ,  আমার ধরে আসে গলা

অথচ পত্র বিন্যাস ? আর কে করে সালোকসংশ্লেষ ?

বলো , তবু বলো, সবাই বলো এক অন্য ভাবে বলা ।


Comments